রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। প্রস্তাবিত প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন স্থানে সচিবালয়ের কার্যক্রম শুরু করা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
পুরোনো ভবনে ভূমিকম্পের ঝুঁকি
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ সচিবালয় ১৭ দশমিক ৫৭ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত। সেখানে মোট ১৩টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে আটটি ভবন স্বাধীনতার আগে নির্মিত।
সচিবালয়ের পুরোনো ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর ভবন ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে নির্মিত হয়। আর ৫ নম্বর ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৪৭ সালে। ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনীয় কাঠামো বিবেচনায় নির্মিত হয়নি। ঢাকা শহর ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এসব ভবনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাবে।


জায়গার সংকটে ব্যাহত হচ্ছে কর্মপরিবেশ
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান সচিবালয়ের ভবনগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবহারযোগ্য জায়গা নেই। এতে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি, ভবনগুলোতে পর্যাপ্তসংখ্যক ওয়াশ-ব্লক না থাকায় এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব সুবিধা ব্যবহার করায় স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিদ্যমান সচিবালয়ে মোট অফিস স্পেস প্রায় ১৮ দশমিক ৭৬ লাখ বর্গফুট। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত জায়গার চাহিদা পূরণ এবং সচিবালয় কমপাউন্ডের বাইরে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কার্যালয়ের স্থানসংকুলানের জন্য আরও ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি অফিস স্পেস প্রয়োজন বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা
নতুন স্থানে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্দেশ্য হলো সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপরিসর বাড়ানো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলা। প্রস্তাবিত ব্যয় ও বাস্তবায়নকাল অনুযায়ী, প্রকল্পটি ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলার কথা।


তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নতুন স্থানে স্থানান্তর করা যাবে কি না, তা প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

